শনিবার, ১৮ মে ২০১৯, ০১:০৫ অপরাহ্ন

৭ ধারার নোটিশ জারির পর আর কোন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবেনা-ভূমিমন্ত্রী

  • ক্রাইম ওয়াচ / অপরাধ অনুসন্ধানে ২৪ ঘণ্টা / আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ মে, ২০১৯

ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ৭ ধারা নোটিশ জারির পর প্রায়ই দেখা যায় মানুষকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মাঠ পর্যায়ে কোন কোন অসাধু চক্র যোগসাজশ করে আরেকজনকে দিয়ে টাইটেল মামলা করায়। ৩ এবং ৪ ধারার নোটিশ জারি করার পরই কেবল শেষবারের মত ৭ ধারার নোটিশ জারি করা হয়। সুতরাং, জনভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ৭ ধারার নোটিশ জারির পর আর কোন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবেনা – এ মর্মে আমরা শীঘ্রই পরিপত্র জারি করতে যাচ্ছি।

‘ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের উদ্যোগে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত অত্র অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ হলে অনুষ্ঠিত ভূমি জরিপ ও রেকর্ড ব্যবস্থাপনায় অধিকতর গতিশীলতা আনয়নে ‘ভূমি জরিপ কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জসমূহ ও উত্তরণে করনীয়’ শীর্ষক এক দিনের কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এসব কথা বলেন।

“ভূমি ব্যবস্থাপনায় এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মাঠ পর্যায়ে জনভোগান্তি দূর করা” বক্তব্যের এক পর্যায়ে এ কথা উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থে কর্মকর্তাদের নিজেদের নেতৃত্ব গুণাবলী প্রয়োগ করে অধীনস্থদের থেকে কাজ আদায় করে নিতে হবে। সবাইকে দ্রুত শোধরানোর পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের ধর্মীয় অনুশাসনের কথা স্মরণ করে দিয়ে বলেন, আমাদের কাজ আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। দেশের মানুষ যেন ভালোভাবে সেবা পেতে পারে এভাবে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর ভাবে নির্দেশ প্রদান করেন যেন তাঁদের দ্বারা মানুষের কোন ধরণের হয়রানি না হয়। মন্ত্রী সবাইকে নিয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী বলেন, “দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় সু-শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো। ভূমি ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন যেন টেকসই হয় সেজন্যে আমরা বদ্ধপরিকর”। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, আমাদের মাইন্ডসেট চেঞ্জ করতে হবে। গতানুগতিক চিন্তা করলে কোন লাভ হবেনা। গুণগত পরিবর্তন আনতে পারলে এবং সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট করতে পারলে কাজ অনেক সহজ হবে।

“ভূমি মন্ত্রণালয়ে কর্মরতদের আমার সাথে ‘সেম পেজে’ (দুর্নীতিমুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়তে সহমত) থাকতে হবে। যারা এতে ‘কমফোর্ট ফিল’ করবেন না তাঁদের ঠিক করে ফেলা উচিৎ তাঁরা কি করবেন। যারা অন্যায় করবেন তাঁরা কেউই রেহাই পাবেন না” – এ কথা বলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী সবাইকে সতর্ক করেন।

ভূমিমন্ত্রী জানান ইতোমধ্যে ১ কোটি ৪৬ লক্ষ খতিয়ান ওয়েবসাইটে আপলোড দেওয়া হয়েছে, সেবাগ্রহীতাগণের সুবিধার্থে অভিযোগ কেন্দ্র গঠনের জন্য হটলাইন, সরকারের সাথে ভূমি সম্পর্কিত বিভিন্ন লেনদেনের জন্য ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুকরণের জন্য একটি পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, অনাবাসী বাংলাদেশিদের সেবা দেওয়ার জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু এবং ল্যান্ড ব্যাংক করার বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন। এগুলো মূলত পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ইন্টিগ্রেটেড অটোমেশনের ভেতর নেওয়ার পর্যায়ক্রমিক ধাপ।

জাতির পিতার বক্তব্য উদ্ধৃতি দিয়ে বিশেষ অতিথি ভূমি সচিব মোঃ মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, “সরকারি কর্মচারিদের জনগণের সেবায় আমাদেরকে নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। আমাদের নিজেদের জনগণের খাদেম বলে বিবেচনা করতে হবে। সুতরাং আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে জনগণের কাছে। আমাদের দ্বারা যেন জনগণের ভোগান্তি না হয় আমাদের সেভাবেই কাজ করে যেতে হবে”।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) আলীম আখতার খান। আলীম আখতার খান তাঁর প্রবন্ধে ভূমি জরিপের ইতিহাস, জরিপ কাজে বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয় সমূহ এবং জরিপ কর্মকাণ্ড আধুনিকায়নে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করেন।

কর্মশালায় নির্ধারিত আলোচকবৃন্দ ছিলেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান, প্রাক্তন পরিচালক ফায়েকুজ্জামান চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নূরুল ইসলাম নাজেম। অধ্যাপক নূরুল ইসলাম উচ্চ শিক্ষায় ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষায়িত কোর্স চালু করা এবং সিভিল সার্ভিসে ‘ল্যান্ড ক্যাডার’ এর প্রতিষ্ঠা করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। অধ্যাপক ইসলামের মতে, ‘বিসিএস (ল্যান্ড ক্যাডার)’ করা হলে ভূমি সেক্টরে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঝে দায়িত্বশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ এবং ভূমি আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল হান্নান। সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এ বছরের জুন মাসের মধ্যেই সমগ্র দেশে ই-নামজারি কার্যক্রম শুরু হবার সমূহ সম্ভাবনার কথা জানান। দুই শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাই ভূমি ব্যবস্থাপনার সমস্যার গভীরতা বোঝাতে যেয়ে নিজেদের জমি সংক্রান্ত ভোগান্তির কথাও উল্লেখ করেন।

নামাজের বিরতির পর উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের উন্মুক্ত আলোচনার মধ্যে দিয়ে কর্মশালার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীবৃন্দ দল ভিত্তিক কার্যক্রম শুরু করেন এবং নিজ দলের কাজের উপস্থাপনা করেন। অংশগ্রহণকারীবৃন্দের সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে কর্মশালা সমাপ্ত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ তসলীমুল ইসলাম। ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তি ও গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন এবং উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© ২০১৯ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত “ক্রাইম ওয়াচ
Theme Download From ThemesBazar.Com