শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ মানবতার অন্যতম আদর্শ একটি দেশ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফখরুল-জাফর উল্লাহর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হাতির ঝিল, বিজিএমইএ ভবন না ভেঁঙে একটা সরকারী শিশু হাসপাতাল করে দিন গোপালপুরে পাকিস্তানি কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ, ধর্ষকের মা গ্রেপ্তার ‘নুসরাত হত্যায় জড়িত সব আসামি গ্রেপ্তার, কেউ ছাড় পাবে না’ টাঙ্গাইলে ট্রাক ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংর্ঘষে নিহত ১ টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই বোনের মৃত্যু রাজধানীতে ইয়াবাসহ সাংবাদিক গ্রেফতার মাদারীপুরে আওয়ামীলীগ নেত্রীর বাসা থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার ঢাকা-বেনাপোল রুটে চালু হচ্ছে এক্সপ্রেস রেল সার্ভিস

মানবতার ফেরিওয়ালা হিসাবে খ্যাত সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মো: সাজ্জাদুর রহমান

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০১৯
  • ১০২ বার পঠিত

শেখ আমিনুর হোসেন, সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা জেলার জনগণের সর্বদা সেবা দিয়ে চলেছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মো: সাজ্জাদুর রহমান। শিক্ষাজীবনের ফলাফল ছিল তাঁর সাড়া জাগানো। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। নিজ পেশায় দক্ষতরা পরিচয় দিয়ে তিনি পুলিশের ভাবমুর্তি উজ্জ্বল করেছেন। সারা দেশে সর্বোচ সম্মান অর্জনকারী পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনি অন্যতম। সততার সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানব সেবায়ও তিনি পিছিয়ে নেই। তিনি কখনও অসহায় এতিমদের পাশে, কখনও গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাহায্য, কখনও ছিন্নমূল মানুষের পাশে থাকে, আবার কখনও সমাজ উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সাজ্জাদুর রহমান ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলার কাকলাশ গ্রামের মরহুম ছবেদ আলী মন্ডলের পুত্র। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন।

পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে তাঁর জন্ম ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। বাবা মায়ের ৬ সন্তানের মধ্যে তিনি সকলের বড়। বোন নাদিরা খাতুন ও নাছিরা খাতুনের বিয়ে হয়ে গেছে অনেক আগেই। ভাই আতাউর রহমান, রবিউল ইসলাম ও আমিরুল ইসলাম সকলেই পড়াশুনা শেষ করে চাকুরীসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত আছেন । পারিবারিক সুত্রে আরও জানা গেছে ২০০০ সালে সাজ্জাদুর রহমান মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো: কোহিনুর হোসনের কন্যা আকিদা রহমান নীলার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । বর্তমানে তাদের ৩ সন্তানের মধ্যে প্রথম পুত্র সাদিক-বিন-সাজ্জাদ ঢাকা সিটি কলজ এইচএসসি’র মেধাবী ছাত্র। ২য় পুত্র হৃদিক-বিন-সাজ্জাদ দিনাজপুর বিকএসপি’তে ৯ম শ্রেণীতে পড়ে ও ক্রিকেট খেলে, কন্যা নাফিসা-বিনত-সাজ্জাদ সাতক্ষীরা নবজীবন ইনষ্টিটিউট ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশুনা করে। সাজ্জাদুর রহমান শিক্ষা জীবনে ঐতিহ্যবাহী কালাবাজার স্কুলে প্রাথমিক স্তর শেষ করে ভর্তি হণ কালাবাজার ইউনাইটেড হাই স্কুলে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৯০ সালে এসএসসি’তে যশোর বোর্ডে মানবিক বিভাগ থেকে মেধা তালিকায় ৪র্থ স্হান লাভ করেন। ১৯৯২ সালে যশোরের এমএম কলেজ থেকে এইচএসসি’তে একই বিভাগ হতে মেধা তালিকায় ১৫তম স্হান পান। এরপর তিনি ১৯৯৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে সমাজ কল্যান ও গবেষণা ইনষ্টিটিউট হতে এমএসএস-এ প্রথম শ্রেণীতে ৫ম স্হান অধিকার করেন। ২০০৩ সালে ২১তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ওই বছরেই বাংলাদেশ পুলিশের এএসপি পদে যোগদান করেন। এরপর সময়ের সাথে সাথে তিনি পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় পুলিশ সুপার-এর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০১০ সালে লাইবেরিয়াতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করে জাতিসংঘ পদক লাভ করেন ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে, এসপি সাজ্জাদুর রহমান নিজ এলাকায় বাবার নামে খুলেছেন ছবেদ আলী ফাউন্ডেশন। উক্ত ফাউন্ডশন-এর মাধ্যমে এলাকার দুস্থদের মাঝে প্রতি বছর শীতবস্ত্র সরঞ্জাম বিতরণ, গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবত্তি চালু করেছেন। নিজ এলাকায় এসে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা করে থাকেন। এছাড়াও এলাকায় উক্ত ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মাদক ও সন্রাস বিরোধী র‌্যালী, বাল্য বিবাহ রোধ বিভিন্ন প্রকার কর্মসুচীর মাধ্যমে জনগনকে সচেতন করার চেষ্টা করে থাকেন। তিনি এলাকায় এসে খোঁজ নিয়ে গরীব মেধাবী শিক্ষার্থী ছাড়াও ছিন্নমূল মানুষদের আর্থিক ভাবে সাহায্য করেন।

মো: সাজ্জাদুর রহমানের বর্তমান কর্মস্থল সাতক্ষীরা’র একজন সংবাদকর্মী চাকুরীর সুবাদে তিনি বেশ কিছুদিন সাতক্ষীরাতে আছেন। এখানকার স্হায়ী বাসিন্দাদের মতো তিনি সাতক্ষীরা’র সামাজিক অবস্তার উন্নয়ন, জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা কর্মসূচী পালনসহ বিভিন্ন ধরণের ভালো কাজ করে আসছেন। তার ধারাবাহিকতায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাতক্ষীরা শহরে সিসি ক্যামরার আওতায় এনেছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সঠিক জবাবদিহিতার জন্য এবং জনসাধারণের অভিযোগ অনুযায়ী আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি গুরত্বপুর্ন পয়েন্টে অভিযোগ বক্স্ স্হাপন করেছেন। সম্প্রতি তিনি একশত টাকায় পুলিশে চাকুরী দিয়ে দেশ ব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেন। নিজ অর্থায়নে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কের দু-পাশে প্রায় ১০ (দশ) হাজারসহ সারা জেলায় ৩০ হাজার বৃক্ষরোপন করে বিরল নজির স্থাপন করেছেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা। পুলিশ কন্ট্রোল রুমে কল করলে মিলবে প্রয়োজন মোতাবেক রক্ত এবং সকল প্রকার সহযোগিতা। এছাড়াও বিশেষ বিশেষ দিন গুলোতে খাবার নিয়ে তিনি চলে যান এতিমখানায় অথবা দুস্থদের মাঝে। এছাড়াও চরম অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেয়া ছাড়াও নিজের ব্যক্তিগত অর্থও খরচ করেন তিনি। সর্বাপরি মানবতার সেবায় তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

ঝিনাইদহের কালাবাজার ইউনাইটড হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কওছার আলী জানান, সাজ্জাদ ছাত্রজীবন অত্যন্ত মেধার সাক্ষর রেখেছে। এছাড়াও সে ছিল সর্বদা জ্ঞান পিপাসু, নম্র, ভদ্র প্রকৃতির ছেলে। তখন তাকে দেখে মনে হতো সে বড় হয়ে কিছু একটা হবে। কথায় আছে, সকালের সূর্য্য দেখে দিনটা কেমন যাবে তা অনুমান করা যায়। সাজ্জাদের ক্ষেত্রও তেমনটিই ঘটেছে। বর্তমান পুলিশের একজন বড় কর্মকর্তা হয়ে দেশ সেবা করার সাথে সাথে সমাজ উন্নয়ন ও মানবতার সেবায় যেভাবে নিজকে উজাড় করে দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সেজন্য আমি তার শিক্ষক হিসেবে নয়, ঝিনাইদহ জেলার একজন মানুষ হিসেবে গর্ববোধ করি। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ কালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন জানান, সাজ্জাদুর রহমান তার গ্রামের ছেলে, ছোটবেলা থেকেই তার চলাফরা ছিল অন্যদের চেয়ে খানিকটা আলাদা। এ এলাকার অনেক মেধাবী ছেলে লেখাপড়া শেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ন্যায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছে । তবে সাজ্জাদ তাদের চেয়ে একেবারে আলাদা, বেশ ভিন্ন। কেননা ছুটিতে যখন সে বাড়ী আসে তখন এলাকার সকল জায়গায় সে ঘুরে বেড়ায়। শিক্ষাজীবনে সে অত্যন্ত মেধাবী ছিলো তাই মেধাবী শিক্ষার্থীদের বেশি করে খোঁজ নিয়ে থাকে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তাদেরকে লেখাপড়ায় উৎসাহ ও সহযোগিতা করে থাকে। অসহায় গরীব দুস্থদের পাশে দাঁড়ায় সাজ্জাদ। মুঠোফোনে সাজ্জাদুর রহমানের সাথে যোগাযাগ করা হলে তিনি জানান, আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হলেও লেখাপড়ায় মধ্যবিত্ত ছিলাম না। পড়াশুনা শেষ করার পরে এদেশ আমাকে কর্মসংস্থান দিয়েছে। আমি ভাবি সমাজের অনেক মানুষের চেয়ে শারিরীক ও মানসিক ভাবে ভালো আছি। কিন্তু সবাই মিলে ভালো থাকতে পারলে সেটাকেই ভালো বলা যাবে। পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে আমি কিছুটা কাজ করি। তারপরও সমাজের একজন মানুষ হিসেবে যতটুকু করা প্রয়োজন তার সবটুকু আমি করতে পারি না। বর্তমান আমার ভাইয়রাও আমাকে কিছুটা আর্থিকভাবে সাহায্য করে থাকে। সে কারনেই আমার জন্য এ ধরণের কাজ করা সহজ হচ্ছে, তিনি আরও বলেন, সমাজের একজন মানুষ হিসেবে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে অনেক কিছু করতে হয়। সবটা করতে না পারলেও অসহায়দের জন্য কিছুটা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি মাত্র ।

মো: সাজ্জাদুর রহমানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। একজন পুলিশ কর্মকর্তা’র এ ধরণের মহতী কর্মকান্ড আমাদের উজ্জিবীত কর। তিনি আগামীতে মেহনতি মানুষের কল্যানে আরও অনেক কিছু করবেন এ আশাবাদ ব্যক্ত করি। আমাদের তাঁর আদর্শে অনুপ্রানিত হওয়া দরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© ২০১৯ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত “ক্রাইম ওয়াচ
Theme Download From ThemesBazar.Com