,

ThemesBazar.Com

সখিপুরের সেই “উসমানের দাবী মিথ্যা-রশিদ মালত”; উভয় পক্ষই চান সুষ্ঠু সমাধান

অামি একজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা, অাজ পর্যন্ত কোন ভাতা গ্রহন করি নাই সেচ্ছায়, যা করেছি তা তো দেশের জন্যই করেছিলাম, সন্তানদের শিক্ষিত করেছি, ওরা এখন চাকরি করে, অামার পেনশনের টাকাই তো অামার জন্য যথেষ্ট। যার অভাব অাছে তাদের সকলকে দিয়ে দেক অামার ভাতা। অথচ সেই অামি অাজ “বাবা-মা হারা উসমানের জমির অবৈধ দখলদার হয়ে গেলাম?”- ক্ষোভ নিয়ে এভাবেই বলছিলেন উসমান মালতের দাবী করা জমির অবৈধ দখলদার হিসেবে অভিযুক্ত চাচা রশিদ মালত।।

 

গত ২৫জুন ২০১৮ইং তারিখে বেশ কয়েকটি খবরের কাগজ ও অনলাইন গনমাধ্যমে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার সখিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা উসমান মালত নামে একজনকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও বিষয়টিতে দৃষ্টিপাত করেন এবং উভয় পক্ষকে সমাধানের জন্য গনশুনানীর দিন উপস্থিত থাকতে নোটিশ পাঠান।

 

“জন্ম থেকে দখলে বে-দখলে বড় হয়েছি” শিরোনামে উসমান মালতের জীবনের করুন ইতিহাসের কথাগুলো প্রকাশ পায়, উক্ত সংবাদে উসমান মালতের বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু ছিলো “বাবার মৃত্যুর পর তার দাদা অাহাম্মদ মালত বেঁচে থাকা অবস্থায় ১.৫০টাকার (দেড় টাকার) স্ট্যাম্পে ৪০শতাংশ জমি তাকে লিখে দিয়েছেন কিন্তু সেই জমি তিনি ভোগ করতে পারছেন না, কারন তার চাচা রশিদ মালত বারবার অবৈধভাবে দখল করে অাছেন, দাদার দেওয়া স্ট্যাম্প টিও চাচার কাছে, প্রথমে চাচা রশিদ মালত অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ইউপি কার্যালয়ে লিখিতভাবে স্বিকার করেন তার কাছেই অাছে এবং তার জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে, কিন্তু জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়নি উসমান কে, তাই ইউএনও ভেদরগঞ্জ বরাবরা সমাধান চেয়ে একটি অাবেদন করেন তিনি। সখিপুর ইউনিয়নের ০৬নং ওয়ার্ডের জমির ঢালীর কান্দি গ্রামের মৃত মেহেরচান মালত ও জাহানারা বেগমের পুত্র।

 

গত ২৯ জুন রশিদ মালতের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন “ওর কথাগুলো সত্য নয়, রাস্তা করতে সবাই জমি দিছে, সবাই একসাথে জায়গা রাইখা নিছি, যেনো ভবিশ্যতে রাস্তাটা গাড়ি চলাচলের উপযুগী হয়, এটা কিভাবে দখল হয়? অার ওর দাবী করা ৪০ শতাংশ জমির কোন ভিত্তি নেই। অামার বাবা জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় উসমানকে তার নিজ জমির একটা অংশ দিয়ে গেছেন যা “দান করা সম্পত্তি”, তার কোন দলিল ছিলো কিনা তা অামি জানিনা”। উসমানের পিতার মৃত্যুর অাগে অামাদের জমি ভাগবাটোয়ারা হয়নি। দাদার অাগে বাবার মৃত্যু হলে উক্ত পিতার ওয়ারিশের সম্পদ সন্তানদের ওয়ারিশ হিসেবে দলিল দেওয়া যায়না, দেওয়ার নিয়মও নেই, দাদা চাইলে দান করতে পারবেন, তাই উসমানকে ঘরবারি করতে জমি দেওয়ার কথা ছিলো এটা অামি জানি।

 

তখন অামি মুন্সীগঞ্জ জেলায় দ্বায়িত্বরত, অামার বাবা অামার কাছে কোন স্ট্যাম্প দেননি এবং মনে পড়েনা, অামার বাবা(উসমানের দাদা)’র মৃত্যুর পর উসমানই দাবী করা শুরু করে ৪০শতাংশ জমি লিখে দিয়ে গেছে অামার বাবা যার স্টাম্প অামার কাছে।

এই নিয়ে বারবার দরবার শালিসী বসে, ওকে ওর ভূলভাঙ্গিয়ে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয় শালিসীতে, সবার সামনে মেনে নেয়, কিন্তু কিছুদিন পর পর অাবার সেই একই দেনদরবার শুরু করে। অামিও চাই এটার একটা স্থায়ী সমাধান হউক।

 

একটি সাদা কাগজে লেখা উকিল নামা দেখিয়ে বলেন, এই দেখেন সর্বশেষ সকলের সামনে যে দরবার হইছে সেই দরবারের সমাধানের কাগজ, ঐ দরবারে একজন উকিলও ছিলেন, সবার সামনে সমাধানও হয়েছিলো অামি স্বাক্ষর দিয়েছি কিন্তু ওসমানের স্বাক্ষর দেওয়ার কথা থাকলেও স্বাক্ষর না দিয়ে অাবার দেনদরবার শুরু করে। নোটিশ পেয়েছি ইউএনও অফিসে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে অামি খুশি হয়েছি, এবার হয়তো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে।

 

অাপনার কাছে ৪০শতাংশ জমির স্ট্যাম্প ছিলো? অাপনার স্বাক্ষর সমেত লিখিত স্বীকারোক্তি রয়েছে বলে দাবী করেছেন উসমান মালত এমন টা জানালে রশিদ মালত বলেন, “সম্পূর্ন মিথ্যা কথা! অামি এমন কোন স্বাক্ষর দেই নাই! অামি নিশ্চিত ওই স্বাক্ষর ওরা ফটোকপি মেশিনে জাল করেছে”। মূল কপি পারলে নিয়ে অাসুক।

 

এরকম মিথ্যাচার অার মেনে নিতে পারছিনা। ওর জন্মের পর বাপ-মা ছাড়া কষ্টে বড়ো হয়েছে এটা সত্য কথা, তারপর ওকে পালছে কে?বড় গলা কইরা কয় অামার বাবা ওর দাদা হয় তাই না? অামি কি অামার পরিবারের জন্য কিছুই করি নাই? ওতো তখন লেংটা ছিলো, ওর জন্য অামি কম করেছি নাকি? বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষই ওকে ভীন্ন চোখে দেখতাম, ঘরের সবার অাদরেই উসমান বড়ো হইছে।

 

অামি অাইনেরই লোক, পুলিশে চাকরি করতাম, কোনদিন একটা টাকাও ঘুষ খাই নাই অামি, মুক্তিযুদ্ধ করছি অামি, কানে লাগানো মেশিনটা দেখিয়ে বলেন, এই দেখেন যুদ্ধের সময় বোমের শব্দে কান দুইটা অচল, এতোক্ষন অাপনাদের কথা শুনতে খুব কষ্ট হয়েছে অামার, তাই বারবার একই প্রশ্ন জানতে চেয়েছি, ৭৪ সনে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিলে অামি সহ অনেকেই একাধারে ০৭ দিন না খেয়ে ঢাকার রাস্তায় ডিউটি করেছিলাম, কি করমু পুলিশের চচাকরি করি, ওই ০৭দিন না খেয়ে থাকায় অামার শারীরিক অবস্থা এবং শ্রবনশক্তি মারত্বক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অামি স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু কোন ভাতা গ্রহন করিনা, কারন যা করেছি তা তো দেশের জন্যই করেছি, সন্তানদের শিক্ষিত করেছি, ওরা চাকরি করে এবং অামার পেনশনের টাকাই তো অামার জন্য যথেষ্ট। যার অভাব অাছে তাদের সকলকে দিয়ে দেক অামার ভাতা। তাই ভাতা নেই না, অথচ “বাবা-মা হারা উসমানের জমি অামাকে দখল করতে হয়েছে এমন অভিযোগ মানতে পারছিনা। নোটিশ পেয়েছি অাগামী ০৪ জুলাই বুধবার ইউএনও অফিসে উভয়কেই উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে, অামি অবশ্যই যাবো, সুষ্ঠু সমাধান চাই অামি, ওদের সমস্ত কাগজপত্রের মূলকপি নিয়ে ঐদিন ইউএনও স্যার কে দেখানোর অনুরোধ করছি।

অার অাপনাদের বলছি স্থানীয়দের কাছে যেনে দেখুন।

সরেজমিনে উক্ত ওসমান মালতের বাড়ির সামনে দোকানপাটে বসে থাকা বেশ কয়েকজনের সাথে অালাপকালে তারা জানান, উসমানের দাদায় ৩ টাকার স্ট্যাম্পে ওরে কিছু জমি দিয়া গেছে এইটা সবাই শুনছিলাম, তবে সেই স্ট্যাম্প কার কাছে সেইটা কোন শালীসি বের করতে না পারায় শেষমেশ দূইপক্ষের মধ্যে মিলমিশ কইরা দেয় সালীশরা, উসমান মালত কে রশিদ মালত ১৫ শতাংশ জমি দিয়ে দিবে, সেই রায় উভয়ই মেনে নেয় কিন্তু উসমানকে তা বুঝাইয়া না দেওয়ায় এই সমস্যা রইয়া গেছে”। উসমান মালত সহ উপস্থিত প্রায় ১০-১২ জনের সামনেই কথাগুলো বলছিলেন উসমান মালতের ফুফাতো ভাই পরিচয়দানকারী স্থানীয় সেরাজল মেলকার।

 

উপস্থিত সকলের সামনে উসমান মালতও বলেন, অামি সেই ১৫ শতাংশ বুইঝা পাই নাই, অামাকে বুঝিয়ে দেয়নি রশিদ মালতরা। উসমান মালতের স্ত্রীর দাবী, জমির সমস্যাটি দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান করা হউক, অপরদিকে চাচা রশিদ মালত বলছেন অামিতো বুঝিয়ে দিতেই চাই কিন্তু উসমান নিজেই বুঝে নিচ্ছে না।

 

স্থানীয়রা মনে করেন, যেহেতু তারা উভয়পক্ষই সমাধান চায় এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সমাধানে বসতে রাজি তাই অামরাও অাশাবাদী যথাযথ কাগজপত্র দেখে ইউএনও মহোদয়’ই পারবেন দীর্ঘসময়ের জমিসংক্রান্ত সমস্যাটির সমাধান করতে।

 

 

এইচ এম অাতিক ইকবাল, স্টাফ রিপোর্টার।

ThemesBazar.Com

     এই বিভাগের আরো খবর