,

ThemesBazar.Com

নড়িয়া’য় ককটেল বিস্ফোরনে পুলিশ সদস্য অাহত!

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নে গাছ কাটা শ্রমিকদের সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে নড়িয়া থানা পুলিশের এক সদস্য ককটেল বিস্ফোরনে গুরুতর অাহত হয়েছেন।

 

অাহত পুলিশ সদস্যের নাম অাঃ হক এবং তার কনস্টেবল কোড-৬৪৮ বলে জানা গেছে। অাহত অবস্থায় প্রাথমিকভাবে তাকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরবর্তীতে উন্নত চিকিউসার জন্য দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।

 

ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, অাজ ২৯জুন উপরোক্ত কেদারপুর ইউনিয়নের মূলফতগঞ্জ বাজার সংলগ্ন জয়নাল দেওয়ানের জমিতে থাকা গাছ কর্তন করার সময় একই গ্রামের নূর হোসেন দেওয়ানের ৩য় পুত্র রনি দেওয়ানের সাথে গাছ কাটা শ্রমিকদের কথাকাটাকাটি হয়, এ সময় গাছের মালিক জয়নাল দেওয়ানের ছেলে জেম বিষয়টি রনির বর ভাই জনি দেওয়ানকে জানালে তাৎক্ষনিকভাবে সমাদান হয়, কিন্তু ছোট ভাই রনির গালমন্দ শুনে গাছ কাট শ্রমিকরা রাগ করে কাজ বন্ধ করে চলে যায়।

 

জনি দেওয়ান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থাকা উক্ত গাছকাটা শ্রমিকদের কাজ করতে ফিরিয়ে অানতে যায়, তার অাগেই ছোটভাই রনি দেওয়ান দৌড়ে গিয়ে গাছকাটা শ্রমিক অানোয়ার কে চর থাপ্পর ও গালমন্দ দিতে থাকেন, এসময় জনি দেওয়ান দৌড়ে থামাতে গেলে শ্রমিকরা ক্ষুব্দ শ্রমিকরা পিটিয়ে জনিয়ে দেওয়ান কে গুরুতর অাহত করে এবং তার মাথা ফাটিয়ে দেয়।

 

স্থানীয় লোকজন এবং স্বজন জনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় অার উক্ত শ্রমিকদেরকে মারধর করতে থাকলে তারা সকলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় দুপুরে জনি দেওয়ান নড়িয়া থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানাগেছে।

 

 

গাছ কাটা শ্রমিকদের বাড়ি একই ইউনিয়নের খারিজ গ্রামে, নিজেদের গ্রামের লোকজন ননিয়ে পুনরায় বিকেল তিনটায় লাঠিশোঠা নিয়ে মূলফৎগঞ্জ বাজারে অাসে। অপরদিকে জনি দেওয়ানদের পক্ষের লোকজনও একত্রিত হতে থাকে এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাসহ বেশ কয়েকটি দোকানপাট কোপানোর ঘটনা ঘটলে নড়িয়া থানা পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত বিপুল পরিমান সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে, বাজারের পেছনে নিকারীপাড়ায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরন হয়, পুলিশ ধাওয়া করলে সংঘর্ষকারিদের ছুড়ে মারা ককটেলল দ্বাশিত্বরত পুলিশ সদস্য অাঃ হক এর বাম হাতের মুল পেশীতে লাগে এবং বিস্ফোরন হয়।

 

 

পুলিশ ঘটনাস্থলে কাউকেই অাটক করতে পারেনি, তবে সন্ধ্যা অানুমানিক ০৭টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে জনি দেওয়ান সহ অপর অারেকজন কে পুলিশ নড়িয়া থানা কমপ্লেক্সে নিয়েছে বলে জানাগেছে, তবে অাটক করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনাস্থলে দ্বায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে অালাপকালে জানাযায় ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং বিস্ফোরনের সাথে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, অামাদের পুলিশ একজন সদস্য অাহত অবস্থায় শরীয়তপুর সদর স্বাস্থকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন
তবে ঘটনায় জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়ন করা থাকবে যেনো অার কোন সহিংসতা না ঘটে।

 

 

মূলফউগঞ্জ বাজারের একাধিক দোকানদার ও স্থানীয়রা বলেন, দেওয়ান বাড়ির গাচ কাটা নিয়স এতো বড় ঘটনা ঘটার কোন মানে হয় না, যার গাছ তার কোন সমস্য নাই অথচ নূর হোসেন দেওয়ানের ছেলে অার গাছ কাটার লোকজনের সংঘর্ষে পুরা বাজারের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলো। লোকসান কে পূর্ন করবে? অার খারিজের লোকজনইবা এভাবে দল পাকিয়ে অাসলো কেনো? মুরুব্বিদের জানাইতো নাইলে পুলিশরে জানাইতো।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, খারিজ থেকে বিকাল বেলা বাজারের মিষ্টির দোকানদার রাজিব মোল্যা কাকন লস্কর সহ তাদের বন্ধুবান্ধব অনেককেই একসাথে দেখছি, কিছুক্ষন পরে তারা বাজারের পিছনে লাঠীসোটা অার দেশীয় অস্ত্র রামদা, কুরাল ইত্যাদি নিয়া জড়ো হয়েছে অপরদিকে নূর হোসেন দেওয়ানদের লোকজনও বাজারের খালের ওপাড়ে জড়ো হয়। ককটেল বিস্ফোরন ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া গেটা এলাকাটিতে অাতংকের সৃষ্টি হয়।

 

এব্যাপারে উভয়পক্ষের কারো সাথেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

এইচ এম অাতিক ইকবাল, স্টাফরিপোর্টার।

ThemesBazar.Com

     এই বিভাগের আরো খবর